“About Marvel Character Right”

-অনেকের মনে একটা প্রশ্ন জাগে এক্স-ম্যান, ফ্যান্টাস্টিক ফোর এবং ডেডপুল মার্ভেলের ক্যারেক্টার হওয়ার সত্বেও মার্ভেল কেনো এসব ক্যারেক্টার তাদের মুভিতে ব্যবহার করতে পারে নাহ!

: ১৯৮৮ সালের মার্ভেল তাদের ক্যারেক্টার বিক্রি করে দেয় সনি, ইউনিভার্সাল পিকচার্স এবং ফক্সের কাছে!
-স্প্যাইডার ম্যান, গোষ্ট রাইডার ক্যারেক্টার সনি কিনে নেয়, হাল্ক নিয়ে নেয় ইউনিভার্সাল পিকচার্স এবং ফ্যান্টাস্টিক ফোর, এক্স-ম্যান, ডেডপুল এবং বেশকিছু শক্তিশালী ভিলেন ক্যারেক্টার চলে যায় ফক্সের কাছে!

-ডিস্ট্রিবিউটর’স কোম্পানিগুলোর সাথে মার্ভেলের ডিল হয়েছিলো তারা মার্ভেলের ক্যারেক্টারগুলো নিয়ে মুভি বানাবে এসব মুভিগুলো থেকে কিছু প্রফিট মার্ভেলকে দিবে কিন্তু মার্ভেল এসব ক্যারেক্টার তাদের নিজস্ব মুভিতে ব্যবহার করতে পারবে নাহ!

-ইউনিভার্সাল পিকচার্সের সাথে কন্ট্রেক্ট ছিলো প্রতি তিন বছর অন্তর অন্তর হাল্ক কে নিয়ে সোলো মুভি তৈরি করতে হবে, যদি নাহ পারে তাহলে হাল্ক ক্যারেক্টার আবার মার্ভেলের কাছে চলে যাবে। ইউনিভার্সাল পিকচার্স ২০০৩ সালে হাল্ক কে নিয়ে সোলো মুভি তৈরি করে, কিন্তু ২০০৬ সালের মধ্যে তারা আর মুভি তৈরি করতে পারে নি তাই হাল্ক ক্যারেক্টার আবার মার্ভেলের কাছে চলে আসে!

-অপরদিকে সনি স্প্যাইডারম্যান দিয়ে বাজিতাম করে কিন্তু গোষ্ট রাইডার দিয়ে তেমন সুবিধা করতে পারে নি তাই সনি গোষ্ট রাইডার রাইট আবার মার্ভেল কে দিয়ে দেয় এবং অপরদিকে ফক্স এক্স-ম্যান দিয়ে বাজিমাত করে!

-সনি চাচ্ছিলো নিজেদের একটা আলাদা ইউনিভার্স তৈরি করবে কিন্তু তারা তা পেরে উঠেনি, তাই সাল ২০১৫ তে সনি মার্ভেলের সাথে একটা ডিল করে স্প্যাইডার ম্যান কে মার্ভেল ব্যবহার করবে তাদের মুভিতে কিন্তু মুভিতে যা প্রফিট হবে সব যাবে সনির থলিতে এবং যদি স্প্যাইডার ম্যানকে নিয়ে সোলো মুভি তৈরি হয় তাহলে তার পুরো কন্ট্রোল সনির হাতে থাকবে। এতে স্প্যাইডার ম্যান ক্যারেক্টারের উপর কোনো প্রভাব পড়বে নাহ। এই ডিলের কারনে আমরা স্প্যাইডারম্যানকে মার্ভেলের মুভিতে দেখে থাকি!

-মার্ভেল তাদের সবগুলো ক্যারেক্টার সনি এবং ফক্সের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার পরেও তাদের কাছ থেকে কিছু প্রফিট পাচ্ছিলো!

-একসময় মার্ভেল সিদ্ধান্ত নেয় তারা নিজেদের মুভি প্রডিউস করবে। তাই তারা “Marvel Cinematic Universe- MCU” গঠন করলো। ১৪ই এপ্রিল ২০০৮ সালে “আইরন ম্যান” মুভির মাধ্যমে মার্ভেলের যাত্রা শুরু। আইরন ম্যান বক্স অফিসে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার ইনকাম করে এবং সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো।

-২০০৯ সালের ৩১ই আগস্ট “দ্যা ওয়াল্ট ডিজনে” ৪.২৪ বিলিয়ন চুক্তিতে মার্ভেলকে কিনে নেয়। ২০০৮-২০১৮ পর্যন্ত মার্ভেল সিনেমেটিক ইউনিভার্স তাদের সবগুলো মুভি থেকে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার ইনকাম করে (কম বা বেশি হতে পারে)!

-কিন্তু বর্তমানে মার্ভেলের সবথেকে বড় সমস্যা হচ্ছে শক্তিশালী ভিলেনের অভাব যা তারা পূর্বে ফক্সে কাছে বিক্রি করে দেয়। ভিলেনের অভাবের কারনে Avengers এবং Avengers: Age Of Ultron এ লোকি ছিলো কিন্তু লোকি অতটা শক্তিশালী ভিলেন প্রমাণিত হয় নি। কিন্তু Avengers: Infinity War মুভিতে থানোস তো বাজিমাত করে দিছে।

-নিঃসন্দেহে বলতে পারি Avengers: End Game এ থানোস পরাজিত হবে। তারপর তো মার্ভেলের আরো শক্তিশালী ভিলেন লাগবে। ফক্সের কাছে মার্ভেলের Magneto, Annihilus, Galactus, Kang The Conqueror এবং Doctor Doom এর মতো শক্তিশালী ভিলেনগুলোর রাইট রয়েছে!

-এ পরিপ্রেক্ষিতে ডিজনে ২০১৭ সালের ১৪ই ডিসেম্বর ঘোষনা দিলো তারা ফক্স ক্ব ৫২ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে কিনে নিবে। অপরদিকে হঠাৎ করে ২০১৮ সালের ১৩ই জুন কমকাস্ট কোম্পানি ফক্স কে কাউন্টারে ৬৫ বিলিয়নের অফার করলো। ডিজনেও ছাড়ার পাত্র নয়। এক সপ্তাহ পর ডিজনি আবার ফক্স কে ৭১.৩ বিলিয়ন ডলারের অফার দিলো। কমকাস্ট কোম্পানি আউট, ডিজনে ইন। অনেক বড় ডিল, তাই আমেরিকান গভমেন্ট একটু টাইম লাগিয়ে এসব ডিল কমপ্লিট করে। আশা করা যায় ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে ডিলটা পুরোপুরি কমপ্পিট হয়ে যাবে!

-ডিলটা কমপ্লিট হলে এক্স-ম্যান, ফ্যান্টাস্টিক ফোর, ম্যাগনেটো, ডক্টর ডুমের মতো শক্তিশালী ক্যারেক্টারগুলো মার্ভেল তাদের মুভিতে ইউজ করতে পারবে!

-আশা করি সবার ক্যারেক্টার রাইট সম্পর্কে ধারনা হয়ে গেছে! 🌸

Disqus Comments